• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজে শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধে ছাত্রদলের স্মারকলিপি রাজারহাটে অসহায় প্রতিবন্ধী রফিকুলের পাশে ইউএনও: মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শতবর্ষী ‘খতনা মাস্টার’ শমসের আলী গুরুতর অসুস্থ: দোয়া চেয়েছে এলাকাবাসী অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নতুন নিয়ম ২০২৬: রেজিস্ট্রেশন ও বুকিং পদ্ধতি কুড়িগ্রামে ২ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা কুড়িগ্রামে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু ফাহিমকে বাঁচাতে আকুতি ২ জুলাই শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার: কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন ইউটিউব দেখে এআই স্মার্ট কার তৈরি: চালক ছাড়াই চলবে রেজিমের উদ্ভাবন দুধকুমার নদীতে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতা কামনা

বড়াইবাড়ি সীমান্ত যুদ্ধ: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস

Reporter Name / ১৫০ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
বড়াইবাড়ি সীমান্ত যুদ্ধ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস
বড়াইবাড়ি সীমান্ত যুদ্ধ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় এবং রক্তক্ষয়ী অধ্যায়টির নাম ‘বড়াইবাড়ি সংঘর্ষ’। ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার এই নিভৃত গ্রামে যা ঘটেছিল, তা কেবল একটি সীমান্ত সংঘর্ষ ছিল না, বরং তা ছিল বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষার এক অদম্য প্রতিরোধের গল্প।

প্রেক্ষাপট: পদুয়া থেকে বড়াইবাড়ি

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কুড়িগ্রাম থেকে অনেক দূরে সিলেটের পদুয়া সীমান্তে। সেখানে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে বিএসএফ দীর্ঘকাল ধরে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে দখল করে রেখেছিল। ২০০১ সালের শুরুর দিকে বিএসএফ যখন সেখানে রাস্তা নির্মাণ শুরু করে, তখন তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) কঠোর অবস্থান নেয় এবং পদুয়া পুনরুদ্ধার করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই বিএসএফ ১৮ই এপ্রিল ভোরে কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্প দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে।

ভোররাতের সেই বিভীষিকা

১৮ই এপ্রিল সেহেরির সময় বড়াইবাড়ি গ্রামের সাধারণ মানুষ যখন তাদের কৃষিজমিতে সেচ দিতে যান, তখন তারা ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে শত শত সশস্ত্র ভারতীয় সৈন্যকে এগিয়ে আসতে দেখেন। হিন্দি ভাষায় বিডিআর ক্যাম্পের অবস্থান জানতে চাওয়ায় গ্রামবাসীরা বুঝতে পারেন এরা বিএসএফ সদস্য। খবরটি দ্রুত বড়াইবাড়ি ক্যাম্পে পৌঁছান আনসার সদস্য সাইফুল ইসলাম লাল। সেই মুহূর্তে ক্যাম্পে মাত্র আটজন বিডিআর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কয়েকশ বিএসএফ সদস্যের বিপরীতে সেই আটজন অকুতোভয় বিডিআর সদস্য এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১২ জন আনসার সদস্য মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

বিডিআর ও সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ

ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া প্রচণ্ড গোলাগুলিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শত শত গুলির শব্দে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হলেও পালানোর বদলে অনেকে প্রতিরোধের সংহতি গড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরবর্তীকালে সংসদ সদস্য হওয়া রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা বিডিআরকে নানাভাবে সহায়তা করতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে অতিরিক্ত বিডিআর শক্তি বড়াইবাড়িতে পৌঁছালে যুদ্ধের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। প্রায় ৩০ ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

ক্ষয়ক্ষতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই সংঘর্ষে বিএসএফ-এর ১৬ জন সৈন্য নিহত হয়, যাদের মরদেহ বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে পড়ে ছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দুই বীর সদস্য নায়েক সুবেদার ওয়াহিদ মিয়া এবং ল্যান্স নায়েক মাহফুজুর রহমান শহীদ হন। পরবর্তীতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ-এর মরদেহগুলো ফেরত দেওয়া হয়। তবে মৃতদেহের অবস্থা এবং বিএসএফ-এর শোচনীয় পরাজয় ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। তৎকালীন ভারত সরকার একে ‘বর্বর হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করলেও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, বিডিআর আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে।

ফলাফল ও তাৎপর্য

এই যুদ্ধের পর বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই একে সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলেও তিনি তা বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তার মতে, সীমান্ত রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখাই ছিল বিডিআরের প্রধান কাজ।

বড়াইবাড়ি সংঘর্ষ প্রমাণ করেছিল যে, সংখ্যায় কম হলেও মনোবল এবং দেশপ্রেম থাকলে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব। আজও প্রতি বছর ১৮ই এপ্রিল বড়াইবাড়িবাসী এবং বিজিবি শ্রদ্ধার সাথে এই দিনটিকে স্মরণ করে, যা বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ইতিহাসে সাহসিকতার এক অনন্য স্মারক হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd