নিজস্ব প্রতিবেদক, ফুলবাড়ী: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোনে বিয়ে এবং একাধিক সমান্তরাল সম্পর্কের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত বরের নাম বাবু মিয়া, যিনি বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। এই প্রতারণার প্রতিবাদে এবং ভুক্তভোগী তরুণীদের অধিকারের দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজপথে নেমেছেন।
প্রতিবাদের ঝড় ও ‘বর তুমি কার?’ স্লোগান: রোববার সকাল ১১টায় উপজেলার বড়লই জকরিয়া টারী গ্রামে অভিযুক্ত বরের বাড়ির সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাবু মিয়ার ছবি সংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় তাদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়— “বর তুমি কার?” স্লোগানটি। তারা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়লই জকরিয়া টারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির ছেলে বাবু মিয়া প্রবাসে থাকা অবস্থায় একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে জিম খাতুনকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে করেন। জিম বর্তমানে স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। যদিও বিয়েটি কাজী অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়নি, তবে বরের পরিবারের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতি মেনে তা সম্পন্ন হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় যোগাযোগও ছিল।
প্রতারণার বিস্তার: ঘটনায় নতুন মোড় নেয় যখন জানা যায়, বাবু মিয়া একই কায়দায় পাশের নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। শিরীনাসহ একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাবু মিয়ার এমন সম্পর্কের খবরে এলাকায় ছি ছি পড়ে গেছে।
জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর বক্তব্য: স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার ঘটনাটিকে ‘সামাজিক অবক্ষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।” মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ জানান, মোবাইল বিয়ের নামে তরুণীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং ভুক্তভোগীদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।