কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
নদ-নদী ঘেরা সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে আজ অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা” এই আহ্বানকে সামনে রেখে ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই জেলা শহরসহ নয়টি উপজেলায় শুরু হয়েছে বৈশাখী উন্মাদনা।
সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো মানুষ। শোভাযাত্রায় স্থান পায় বাঙালির ঐতিহ্যের ধারক বিশালকায় কুলা, পলো, নাঙল-জোয়াল এবং লোকজ সংস্কৃতির নানা প্রতিকৃতি।
শহরের কলেজ মোড় এবং স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। স্থানীয় শিল্পীদের কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং গ্রামীণ পিঠা-পুলি।
শহরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারগুলোতেও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে চিলমারী, নাগেশ্বরী এবং উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়িক কেন্দ্রে আজ ব্যবসায়ীরা হালখাতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। ক্রেতা-বিক্রেতার মেলবন্ধনে মিষ্টিমুখ আর আড্ডায় জমে উঠেছে পুরনো দিনের হিসাব মেলাবার এই চিরচেনা উৎসব।
“নদী ভাঙন আর অভাবের লড়াই আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, কিন্তু পহেলা বৈশাখ আমাদের সব দুঃখ ভুলিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়।” — কুড়িগ্রাম শহরের এক দর্শনার্থী।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নববর্ষের এই আনন্দধারা কেবল শহরেই নয়, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে চলছে সাধ্যমতো ভালো খাবারের আয়োজন আর নতুন পোশাকের বাহার। সব মিলিয়ে কুড়িগ্রামের আকাশ-বাতাস এখন উৎসবের রঙে রঙিন।